স্বাধীন বাংলাদেশে এখনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
পুরস্কার প্রদান শেষে ড. ইউনূস বলেন,"দীর্ঘদিন ধরে এদেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। দুর্নীতি, লুটপাট, গুম-খুনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকার কায়েম করা হয়েছিল।"
তিনি বলেন, "গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।"
মরণোত্তর পুরস্কারপ্রাপ্তদের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, "জীবিত ব্যক্তিরা যদি নিজের হাতে এই সম্মান গ্রহণ করতে পারতেন, তবে সেটি আরও অর্থবহ হতো। ভবিষ্যতে শুধুমাত্র জীবিতদের পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম করা যায় কি না, তা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।"
গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন,
"তাদের আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই সুযোগ কোনোভাবেই হারানো যাবে না।"
এ বছর স্বাধীনতা পুরুস্কার পেয়েছেন তারা হলেন, — বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।
গত ১১ মার্চ রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকার প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।